i cant focus on studying sohopathi.com

আমার একদমই পড়তে ইচ্ছে করে না

এই লেখাটি পড়ে তোমরা যা যা জানতে পারবে:

পড়াশোনায় মন না বসার কারণ
পড়াশোনায় মন বসানোর কার্যকরী টিপস
কিছু YouTube Channel -এর সাজেশন, যা পড়াশোনায় সহায়ক হবে

আলাপ শুরুর আগে তোমাদের মতোই এক শিক্ষার্থীর গল্প শুনে আসি। তার নাম রিফাত। বাকি আলাপ তার মুখেই শোনা যাক।

“আমার নাম রিফাত। আমি ক্লাস টেনে পড়ি। স্কুল-কোচিং সব মিলিয়ে আমার পড়াশোনার চাপ এমন হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, মাঝে মাঝে মনে হয় বুকের ওপর যেন কেউ ভারী কিছু চাপিয়ে রেখেছে। সকালবেলা ঘুম থেকে উঠতেই মা বলে, “রিফাত, বই নিয়ে বসো।” স্কুলে গিয়ে ক্লাসের স্যারদের শুনতে হয়, “তোমাদের পড়ার সময় নেই, শুধু মোবাইল নিয়ে পড়ে থাকো!” বাসায় ফিরলে আব্বু আবার সেই পুরনো কথা শুরু করেন, “এই সময়টা যদি নষ্ট করো, জীবনে কিছুই হবে না।”

সত্যি বলতে কী, পড়তে একদমই ভালো লাগে না। বই খুললেই মনে হয় মাথার ভেতর দম বন্ধ হয়ে আসছে। পৃষ্ঠাগুলো যেন আমায় ভেংচি কাটে। যতই পড়ার চেষ্টা করি, মনে হয় কিছুই মাথায় ঢুকছে না। মনে হয়, এই পড়াশোনার কী লাভ? জীবনে সফল হতে হলে তো শুধু বই পড়াই যথেষ্ট না! কত লোক তো ব্যবসা করেই বড়লোক হয়েছে। আমি বুঝতে পারছি না, আমার পড়তে ভালো লাগে না কেন?

আমি বুঝি, পড়তে না চাওয়ার পেছনে অনেক কারণ আছে। ক্লাসের পড়া ঠিকমতো না বোঝা, গাদা গাদা টপিক মুখস্থ করার চাপ, আর সেই সঙ্গে ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা —সব মিলিয়ে মাথা এলোমেলো লাগে। পরীক্ষার আগের রাতে তো মনে হয় মাথার ভেতর একটা ঘূর্ণিঝড় চলছে!”

রিফাতের মতো শিক্ষার্থীদের জন্য এই সমস্যাগুলো খুবই বাস্তব। তারা অনেক সময় বুঝতেই পারে না কেন পড়তে ভালো লাগে না। অথচ এই কারণগুলো বুঝলে সমস্যার সমাধান খুঁজে পাওয়া সহজ হয়।

আন্তর্জাতিকভাবে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় অনাগ্রহ নিয়ে বেশ কিছু গবেষণা হয়েছে।

মনোবিজ্ঞানী ক্যারল ডুইক (Carol Dweck)-এর গবেষণায় উঠে এসেছে যে পড়াশোনায় মনোযোগ না দেওয়ার পেছনে সাধারণত কয়েকটি বিষয় কাজ করে। যেসব শিক্ষার্থী মনে করে, “আমি তো পারবই না“, বা “আমি তো এমনিতেই গণিতে খারাপ” — তারা সহজেই পড়ার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। এটা ‘Fixed Mindset‘-এর লক্ষণ। কিন্তু যারা মনে করে, “আমি যদি চেষ্টা করি, তাহলে শিখতে পারবো” — তারা তুলনামূলকভাবে বেশি মনোযোগী হয় এবং পড়াশোনায় আগ্রহ ধরে রাখতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত চাপ বা পরীক্ষার ভয় শিক্ষার্থীদের মনে অজান্তেই পড়াশোনার প্রতি নেতিবাচক মনোভাব তৈরি করে। পরীক্ষায় ভালো করার প্রবল চাপ থাকলে পড়ার বিষয়টি একটা বোঝা মনে হয়।

শিক্ষার্থীদের অনেকেই ভাবে, “এই পড়াশোনার ভবিষ্যতে কী কাজে আসবে?” — এই প্রশ্নের উত্তর না পেলে আগ্রহ দ্রুত কমে যায়। বাস্তব জীবনের উদাহরণ ছাড়া তত্ত্বভিত্তিক পড়া অনেকের কাছে বিরক্তিকর মনে হয়।

স্মার্টফোন, সোশ্যাল মিডিয়া, অনলাইন গেম — এগুলো শিক্ষার্থীদের মনোযোগকে দ্রুত ডাইভার্ট করে। এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা একটানা ২৫ মিনিটের বেশি মনোযোগ ধরে রাখতে পারে, তাদের পড়ার ফলাফল উল্লেখযোগ্যভাবে ভালো হয়। কিন্তু স্ক্রিনে মনোযোগ সরে গেলে সেই মনোযোগ ফিরিয়ে আনতে সময় লাগে দ্বিগুণেরও বেশি।

এই লেখা পড়ার পর তোমরা যা জানতে পারবে বিষয়গুলো নিয়ে আলাপ করা হবে

বয়োসন্ধির প্রভাব

তোমাদের অনেকেই রিফাতের বয়েসী। কেউ বা এর চেয়ে আরো বড়। মোটকথা তোমাদের অনেকেই এখনও কৈশোরেই আছ। এই সময়টাকে বলা হয় বয়োসন্ধি।

  • বয়সের এই পর্যায়ে কিশোর-কিশোরীদের অনেক মানসিক, শারীরিক এবং আবেগগত পরিবর্তন ঘটে, যা একজন শিক্ষার্থীর মনোযোগ এবং আগ্রহের ওপর প্রভাব ফেলে। এই বয়সে শরীর এবং মনের অনেক পরিবর্তন ঘটে। আবেগগত দিক থেকে খুব সহজেই পরিবর্তন আসে—কখনো খুব খুশি, কখনো দুঃখিত, কখনো উদ্বিগ্ন। এই মানসিক অবস্থাগুলো পড়াশোনার প্রতি মনোযোগ কমিয়ে দেয়। কেউ হয়তো নতুন কিছু শিখতে আগ্রহী থাকলেও, যখন তাদের মনের অবস্থা খারাপ থাকে, তখন পড়তে ইচ্ছে করে না।
  • বয়োসন্ধির সময়ে স্কুল, বন্ধুবান্ধব, পরিবার—সবখানেই কিছু না কিছু চাপ থাকে। পড়াশোনার চাপের সাথে সামাজিক চাপ, ভবিষ্যতের চিন্তা, এবং পরিবারের প্রত্যাশা—এসব একসাথে পড়ে যায়। এই চাপগুলো টিনেজদের মনে উদ্বেগ সৃষ্টি করে এবং পড়ার প্রতি আগ্রহ কমিয়ে দেয়।
  • এই বয়সে নিজের স্বাধীনতা এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতার দিকে আগ্রহ বেড়ে যায়। অনেক সময় পড়াশোনা একটি বাধ্যবাধকতা মনে হয়, কারণ এটা তাদের স্বাধীনতা বা ইচ্ছের বিরুদ্ধে। টিনেজ বয়সের শিক্ষার্থীরা নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নিতে চায়, এবং তখন তারা পড়ে থাকতে চায় না বা পড়াশোনাকে তাদের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ হিসেবে অনুভব করে।
  • শারীরিক পরিবর্তনও তাদের পড়াশোনায় প্রভাব ফেলে। টিনেজ বয়সে শরীরের নানা ধরনের শারীরিক পরিবর্তন ঘটে, যেমন হরমোনাল পরিবর্তন, শারীরিক বৃদ্ধি, ইত্যাদি। এই পরিবর্তনগুলো অনেক সময় ক্লান্তি, অস্থিরতা বা মনঃসংযোগের সমস্যা সৃষ্টি করে। এই শারীরিক ক্লান্তির কারণে তারা পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারবে না বা দীর্ঘ সময় ধরে পড়তে চায় না।

‘পড়াশোনা করে কী লাভ?’ 

একটা কথা ভেবে দেখো, এখন যে সময়টা তুমি পড়াশোনার পেছনে দিচ্ছ, সেটাই আসলে তোমার ভবিষ্যতের বিনিয়োগ। পড়াশোনা তোমাকে শুধু বেশ কিছু সার্টিফিকেটই দেয় না, এটা তোমার যুক্তিবোধ, বিশ্লেষণ ক্ষমতা, এবং সমাধান খোঁজার দক্ষতাও বাড়ায়। পড়াশোনা মানে শুধু ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হওয়া নয়, এটা তোমাকে জীবনের নানা জটিল সমস্যার সমাধান খুঁজে পেতেও সাহায্য করে।

“পড়াশোনা করে কী লাভ?” — এই প্রশ্নটি প্রায় প্রতিটা শিক্ষার্থীর মনেই কোনো না কোনো সময় ঘুরপাক খেতে থাকে। বিশেষ করে যখন তারা তাদের পড়াশোনার উদ্দেশ্য বা ভবিষ্যৎ লক্ষ্য সম্পর্কে নিজেরাই ক্লিয়ার থাকে না। 

পড়াশোনা মানুষের মানবিক মূল্যবোধ এবং সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি গঠনে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। এক গবেষণায় দেখা গেছে যে শিক্ষিত ব্যক্তিরা সাধারণত সহানুভূতিশীল এবং সামাজিক ন্যায়বিচারে বিশ্বাসী হয়ে থাকে। বই পড়ার মাধ্যমে আমরা নতুন সংস্কৃতি, ইতিহাস এবং বিভিন্ন মানুষের জীবনের গল্প জানি, যা আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিকে সম্প্রসারিত করে এবং মানবিকতাকে উন্নত করে।

একথা সত্য, পড়াশোনার মাধ্যমে আমরা আমাদের ক্যারিয়ার গড়ে তুলি। বিশেষজ্ঞরা গবেষণায় জানিয়েছেন যে, যেসব ব্যক্তি উচ্চশিক্ষিত, তারা সাধারণত ভালো চাকরি পান এবং তাদের আয়ের সম্ভাবনা অনেক বেশি। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করার মাধ্যমে ব্যক্তির পেশাগত দক্ষতা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ে।

National Bureau of Economic Research -এর এক গবেষণায় বলা হয়েছে যে, যারা কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষ করেছেন, তারা উচ্চতর আয়ের এবং স্বচ্ছল জীবনযাপনের সম্ভাবনা ২০-৩০% বেশি পান।

মন বসে না পড়ার টেবিলে? পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার উপায়গুলো জানুন

পড়াশোনা আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। যখন আমরা নতুন কিছু শিখি, তখন আমাদের মস্তিষ্ক নতুন তথ্য এবং ধারণার সঙ্গে পরিচিত হয়, যা আত্মবিশ্বাস এবং মানসিক শান্তি সৃষ্টি করে। এই আত্মবিশ্বাস জীবনযুদ্ধে আরও সাহসী হতে সাহায্য করে।

বিশ্ব দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। প্রযুক্তি, অর্থনীতি, সমাজ—সবকিছুতেই নতুন পরিবর্তন ঘটছে। পড়াশোনা আমাদের এই পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে চলতে সাহায্য করে। যেহেতু পড়াশোনার মাধ্যমে আমরা নতুন ধারণা, প্রযুক্তি এবং দক্ষতা শিখি, তাই আমরা এই পরিবর্তিত পৃথিবীতে সহজেই জায়গা করে নিতে পারি।

World Economic Forum -এর একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, AI ও অন্যান্য টেকনোলজির কারণে আগামী দশকে প্রায় ৮৫ মিলিয়ন চাকরির ক্ষেত্র শূন্য হয়ে যেতে পারে, তবে ৯৭ মিলিয়ন নতুন চাকরি সৃষ্টি হবে যদি মানুষ সেই AI ও নতুন টেকনোলজির কাজ শিখে নেয়।

পড়াশোনা মানসিক চাপ এবং উদ্বেগ কমাতে সাহায্য করতে পারে। এক গবেষণায় দেখা গেছে যে, শিক্ষার্থীরা যখন নিজেকে একটি লক্ষ্য অর্জনে মনোনিবেশ করে, তখন তাদের মানসিক চাপ কমে যায় এবং তারা নিজের চিন্তা-ভাবনা আরও সঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারে।

পড়ার আগ্রহ বাড়ানোর কিছু কার্যকর টিপস

পড়াশোনায় আগ্রহ না থাকলে অনেক সময় মনে হয়, পড়া এক ধরনের বাধ্যবাধকতা, যা একেবারে কষ্টকর। কিন্তু কিছু সহজ এবং কার্যকর টিপস অনুসরণ করলে পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ তৈরি করা সম্ভব। 

1️⃣ ছোট ছোট টার্গেট সেট করা

একবারে পুরো বই পড়ার চিন্তা করতে গেলে অনেক সময় সেটা বিশাল এবং ভয়ঙ্কর মনে হতে পারে। এমন হলে পড়তে শুরু করা অনেক কঠিন হয়ে যায়। তবে, ছোট ছোট লক্ষ্য ঠিক করলে সেটা সহজ হয়। যেমন, ঠিক করো, আজকের দিনের জন্য শুধু ২০ মিনিট পড়তে হবে বা আজ একটা অধ্যায় শেষ করবো। এই ছোট লক্ষ্য পূরণ করার পর এক ধরনের সন্তুষ্টি অনুভূত হয়, যা পরবর্তী অধ্যায় শুরু করতে অনুপ্রাণিত করে।

2️⃣ মজার রিসোর্স খুঁজে বের করা

পড়াশোনা যদি শুধুমাত্র পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে তা বিরক্তিকর হয়ে উঠতে পারে। কিন্তু ইউটিউব, পডকাস্ট বা অন্যান্য ডিজিটাল রিসোর্সে অনেক শিক্ষামূলক এবং মজাদার ভিডিও বা কনটেন্ট পাওয়া যায়, যা পড়াশোনাকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে। উদাহরণস্বরূপ, যদি তুমি গণিত বা বিজ্ঞান নিয়ে পড়ো, তবে কিছু অ্যানিমেটেড ভিডিও বা মজার চ্যানেল খুঁজে বের করো, যা সেই বিষয়গুলো সহজ এবং মজাদারভাবে ব্যাখ্যা করে। এতে পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ অনেক বেড়ে যায়।

3️⃣ নিজের আগ্রহ অনুযায়ী পড়া

বলা হয়ে থাকে, “যে বইয়ের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করা যায়, সেটি পড়া অনেক সহজ।” তাই, শুধু পাঠ্যবই পড়ার চেয়ে নিজের আগ্রহের বিষয়গুলোর উপর বই পড়তে শুরু করো। এটা হতে পারে সাহিত্য, সায়েন্স ফিকশন, মনোবিজ্ঞান বা কোনো প্রখ্যাত ব্যক্তির জীবনী। যখন তুমি এমন কিছু পড়বে, যা তোমার ব্যক্তিগত আগ্রহের সাথে সম্পর্কিত, তখন পড়া অনেক বেশি উপভোগ্য হবে।

4️⃣ পড়ার মাঝে ছোট বিরতি নাও

দীর্ঘ সময় ধরে একটানা পড়লে মন থেকে আগ্রহ হারিয়ে যেতে পারে। তাই, পড়ার মাঝে ছোট বিরতি নেওয়া খুব গুরুত্বপূর্ণ। যখন তোমার মন পড়া থেকে সরে যাবে বা বিরক্ত লাগবে, তখন একটু হাঁটাহাঁটি করো, গান শোনো, বা নিজের পছন্দের কোনো কাজ করো। এতে মন সতেজ হয়ে উঠবে এবং পুনরায় পড়াশোনায় মনোযোগ ফিরিয়ে আনবে। 

পড়াশোনায় পমোডোরো টেকনিক : যেভাবে এপ্লাই করবে

5️⃣ পড়ার পরিবেশ সাজাও

পড়ার জন্য সঠিক পরিবেশ তৈরি করা জরুরি। যেখানে তুমি পড়তে চাও, সেটি শান্ত এবং অদৃশ্য ব্যাঘাত থেকে মুক্ত হওয়া উচিত। যদি তোমার পড়ার জায়গা জটিল বা বিশৃঙ্খল থাকে, তাহলে পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ কমে যেতে পারে। তাই পড়ার টেবিল বা ডেস্কটা পরিষ্কার এবং আরামদায়ক হওয়া উচিত। সঠিক পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে পড়াশোনায় মনোযোগ দেয়া সহজ হবে।

6️⃣ পড়ার আগে ভালোভাবে বিশ্রাম নাও

অতিরিক্ত ক্লান্তি বা অলসতা থেকেও পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ কমে যায়। তাই পড়ার আগে ভালোভাবে বিশ্রাম নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় ঘুম নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। যখন শরীর এবং মন ভালোভাবে বিশ্রাম পায়, তখন পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ এবং মনোযোগ বাড়ে।

7️⃣ নিজেকে মোটিভেট করো

তুমি যদি পড়াশোনা করতে নিজের ভেতর থেকেই তাগিদ না পাও, তাহলে পড়ার সময় নিজেকে খুঁজে বের করতে হবে। পড়াশোনা নিয়ে কিছু মোটিভেশনাল স্পিচ বা ভিডিও দেখতে পারো, যা তোমাকে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি দেবে। যেমন, সফল ব্যক্তিদের গল্প, তাঁদের জীবনযাত্রা এবং তাঁদের কঠোর পরিশ্রম সম্পর্কে জানলে পড়াশোনার প্রতি মনোভাব পরিবর্তিত হতে পারে।

8️⃣ পড়ার লক্ষ্য স্থির করো

পড়াশোনার উদ্দেশ্য যদি স্পষ্ট না থাকে, তবে পড়া কঠিন হয়ে যেতে পারে। তুমি যদি নিজের জন্য একটি লক্ষ্য স্থির করো, যেমন “আমি এই মাসে এই বইটা শেষ করবো”, তাহলে সেটা তোমাকে পড়তে উৎসাহিত করবে। তুমি যদি বুঝতে পারো কেন পড়াশোনা করছো, তাহলে সেটা আরো আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে।

9️⃣ প্রতিদিন পড়ার রুটিন তৈরি করো

পড়াশোনাকে একটি অভ্যাসে পরিণত করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন একই সময়ে পড়াশোনার জন্য কিছু সময় নির্ধারণ করো। একটা নির্দিষ্ট সময় পেলে তুমি সেটা নিয়মিত করতে পারবে, এবং পড়াশোনাকে জীবনের একটি অংশ হিসেবে দেখতে শুরু করবে।

🔟 গ্রুপস্টাডি করো

পড়াশোনা একা একা করতে গেলে অনেক সময় আগ্রহ হারিয়ে ফেলা যায়। কিন্তু যদি তুমি তোমার বন্ধুর সঙ্গে একটি টপিক নিয়ে আলোচনা করো, তাহলে তা অনেক মজার হয়ে উঠবে। তুমি যদি কোনো বিষয়ের ওপর বন্ধুর সঙ্গে আলোচনা করো, তবে তোমার পড়া আরও স্মরণীয় হয়ে থাকবে এবং তা মজাদারও হবে।

তোমাদের জন্যে কিছু ইউটিউব চ্যানেল সাজেস্ট করি

কিছু ইউটিউব চ্যানেল এবং ভিডিও সাজেস্ট করছি, যা তোমাদেরকে পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ বাড়াতে সাহায্য করবে:

1️⃣ CrashCourse

CrashCourse একটি অসাধারণ চ্যানেল যা শিক্ষা বিষয়ক বিভিন্ন টপিকে ভালো সাজেশন দেয়। তবে তাঁদের Study Skills সিরিজটি বিশেষভাবে পড়াশোনার দক্ষতা ও টিপস নিয়ে তৈরি। ভিডিওগুলো প্রাণবন্ত, সহজবোধ্য এবং শিক্ষামূলক, যা তোমাদেরকে পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করবে।

2️⃣ Thomas Frank

Thomas Frank পড়াশোনার দক্ষতা, মনোযোগ এবং সময় ব্যবস্থাপনা নিয়ে ভিডিও তৈরি করেন। তাঁর ভিডিওগুলো খুবই সহজ ভাষায় এবং কার্যকরী টিপস দিয়ে সাজানো। “How to Study for Exams” ভিডিওটি বিশেষভাবে পরীক্ষার প্রস্তুতি কীভাবে নিবে – এ সম্পর্কে তোমাকে সাহায্য করবে।

3️⃣ Ali Abdaal

Ali Abdaal তাঁর চ্যানেলে পড়াশোনার বিভিন্ন কৌশল শেয়ার করেন। তিনি পড়াশোনার দক্ষতা, মনে রাখার কৌশল, এবং স্মার্ট স্টাডি টেকনিক নিয়ে ভিডিও তৈরি করেন। “How to Study Effectively” ভিডিওটি বিশেষভাবে টেস্ট এবং এক্সাম প্রস্তুতির জন্য উপকারী।

4️⃣ Khan Academy

Khan Academy  বিশ্বব্যাপী শিক্ষা ক্ষেত্রে খুবই জনপ্রিয় একটি প্ল্যাটফর্ম। তাঁদের চ্যানেলে বিভিন্ন বিষয়ের ভিডিও আছে, তবে তাঁদের “How to Learn Anything Faster” ভিডিওটি বিশেষভাবে শিক্ষার দ্রুত এবং কার্যকরী উপায় নিয়ে। এটি শিক্ষার্থীদের জন্য খুবই উপকারী হবে।

5️⃣ Studytee 

Studytee চ্যানেলটি পড়াশোনার অভ্যাস, মনোযোগ এবং টাইম ম্যানেজমেন্ট নিয়ে ভিডিও তৈরি করে। “How to Stay Productive While Studying” ভিডিওটির মাধ্যমে তুমি শিখবে কী করে তোমার পড়াশোনাকে আরো প্রডাক্টিভ করে তোলা সম্ভব।

6️⃣Unacademy

Unacademy চ্যানেলটি মূলত ভারতে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য খুবই জনপ্রিয়। তবে তাঁদের অনেক ভিডিও শিক্ষার্থীদের জন্য পড়াশোনার উপকারিতা ও টিপস নিয়ে আলোচনা করে, যা স্কুল এবং কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্যও কার্যকরী হবে।

এই চ্যানেলগুলো সাবস্ক্রাইব করে রাখতে পার।

 

পড়ায় মন না বসা সত্যি খুবই হতাশাজনক হতে পারে। কিন্তু, এতে কোনো দুশ্চিন্তার কারণ নেই। প্রতিটি মানুষই কখনও না কখনও এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়, তাই এই সময়টাকে কিছুটা স্বাভাবিকভাবে নেওয়া উচিত। মনে সাহস রাখো, কারণ এটা শুধু একটা সময়ের ব্যাপার। শুধু প্রয়োজনীয় স্টেপগুলো ফলো করলেই তুমি আবার পড়াশোনায় আগ্রহ ফিরে পাবে।

ধৈর্য্য এবং সঠিক কৌশল নিয়ে চেষ্টা করলে, সব সমস্যারই সমাধান সম্ভব। মনে রাখো, তুমি একা নও—সকলেরই এই পথ পাড়ি দিতে কিছুটা সময় লাগে। তোমার পরিশ্রম এবং সঠিক দিকনির্দেশনা তোমাকে সাফল্য এনে দেবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

তাই হতাশ না হয়ে এগিয়ে যাও, কারণ সামনে ভালো কিছু অপেক্ষা করছে। অনেক অনেক শুভ কামনা রইল।

Print

Login

OR
Share
Facebook
WhatsApp
LinkedIn
Email

কেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্লেইম করবেন?

পেইজ পরিচালনার নিয়ন্ত্রণ নিন

ক্লেইম করার পর আপনার প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে সমস্ত তথ্য যেমন, আপনার প্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক সুযোগ-সুবিধা, প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগের তথ্য ইত্যাদির আপডেট তুলে ধরতে পারবেন।

নোটিশ ও অন্যান্য ঘোষণার মাধ্যমে তথ্য প্রদান

নোটিশ, ইভেন্ট বা যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা সরাসরি পেইজে পোস্টের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রয়োজনীয় তথ্য জানাতে পারবেন।

ফান্ডরেইজ বা তহবিল সংগ্রহ

প্রতিষ্ঠান ক্লেইম করার পর তহবিল সংগ্রহ বা ফান্ডরেইজ ক্যাম্পেইন পরিচালনা করতে পারবেন। আপনার প্রতিষ্ঠানের কোন কোন খাতে আর্থিক সহযোগিতা জরুরী এবং কীভাবে সেটি বাস্তবায়িত হবে, সে সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় তথ্য আপডেটের মাধ্যমে অ্যালামনাই, দাতা এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা নিতে পারবেন।

ডোনেশনের জন্য প্রয়োজনীয় তালিকা তৈরি

আপনার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য আবশ্যিক —যেমন বই, ল্যাবের সরঞ্জাম বা অন্যান্য জিনিস— এসব তালিকায় এড করে রাখতে পারবেন। এতে দাতা বা ডোনাররা সহজেই বুঝতে পারবেন তাঁদের অনুদান কোন কোন অংশে ব্যবহার করা হবে।

বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ান

Sohopathi.com-এ ভেরিফাইড পেজ থাকলে আপনার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সহজেই সকলের বিশ্বস্ততা অর্জন করবে। ক্লেইম করা পেইজে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সবকিছু ঠিকঠাক আপডেট দেয়ার মাধ্যমে কমিউনিটি ও দাতাগোষ্ঠীর কাছে প্রতিষ্ঠানকে আরো জীবন্ত বলে মনে হবে।

অ্যালামনাই ও দাতাদের সঙ্গে সংযোগ

পেইজ ক্লেইম করলে প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তন ছাত্রছাত্রী ও ডোনারদের সঙ্গে নতুন করে যোগাযোগ করতে পারবেন। Sohopathi.com-এর এই ফিচারের সুবিধাগুলো আপনার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে তাদের সঙ্গে আরও ভালো সম্পর্ক তৈরি করতে সাহায্য করবে।